জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স ডাকা বা জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে একটি ফোন কলই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কিন্তু কঠিন মুহূর্তে আমরা অনেক সময় এলোমেলো হয়ে যাই, যার ফলে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে দেরি হয়। ইমারজেন্সি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস কল করার আগে কিছু কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।  আপনার ও আপনার প্রিয়জনের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইমারজেন্সি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস কলের আগে যে ৮টি বিষয় বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি, তা এখনে দেওয়া হ’লঃ- 

১. সঠিক নম্বর সংগ্রহে রাখা

বিপদ কখনও বলে আসে না। তাই সবসময় ফোনে অন্তত ২-৩টি বিশ্বস্ত অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস যেমন ফাইন্ড এ্যাম্বুলেন্স বিডি মোবাইল নাম্বার 01534-953647 বা হাসপাতালের নম্বর সেভ করে রাখুন। আমাদের দেশে ‘৯৯৯’ নম্বরে কল করে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নেওয়া যায়, তবে দ্রুততার জন্য আপনার এলাকার বেসরকারি সার্ভিসের নম্বর জানাও খুব জরুরি।

২. রোগীর বর্তমান অবস্থা পরিষ্কারভাবে বলা

কল করার সাথে সাথেই ঘাবড়ে না গিয়ে শান্তভাবে রোগীর প্রধান সমস্যাটি বলুন। যেমন রোগী কি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, নাকি স্ট্রোক করেছেন? রোগীর হার্টের সমস্যা থাকলে অবশ্যই উল্লেখ করবেন। কারণ আপনার তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তারা নির্ধারণ করবে আপনার ‘এসি অ্যাম্বুলেন্স’ নাকি লাইফ সাপোর্ট বা ‘আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স’ প্রয়োজন।

৩. সঠিক অবস্থান বা লোকেশন জানানো

ঢাকার মতো জনবহুল শহরে গলির নাম বা বাসার নম্বর অনেক সময় ড্রাইভাররা খুঁজে পান না। তাই কল করার সময় কোনো পরিচিত ল্যান্ডমার্ক (যেমন: বড় কোনো মসজিদ, বাজার বা স্কুল)-এর নাম বলুন। সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্স আসার গলির মুখে পরিবারের একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে বলুন, যাতে ড্রাইভারকে ইশারা করে দ্রুত ভেতরে নেওয়া যায়।

ইমারজেন্সি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এর জন্য কল করুন 01534-953647

৪. প্রয়োজনীয় মেডিকেল সাপোর্টের কথা উল্লেখ করা

সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে শুধু স্ট্রেচার এবং প্রাথমিক অক্সিজেন থাকে। কিন্তু রোগীর যদি ভেন্টিলেটর, নেবুলাইজার বা ইনজেকশন দেওয়ার জন্য প্যারামেডিক প্রয়োজন হয়, তবে সেটি বুকিং করার সময় স্পষ্ট করে বলুন। মনে রাখবেন, সব এসি অ্যাম্বুলেন্সে কিন্তু চিকিৎসার পূর্ণ সরঞ্জাম থাকে না।

৫. গন্তব্য এবং খরচ নিয়ে কথা বলা

অ্যাম্বুলেন্স ছাড়ার আগেই কথা বলে নিন রোগীকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাস্তার দূরত্ব এবং যানজট অনুযায়ী ভাড়ার তারতম্য হতে পারে। শুরুতেই ভাড়া নিয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা নিলে পরে কোনো ঝামেলার সুযোগ থাকে না।

৬. অ্যাম্বুলেন্স আসার আগ পর্যন্ত করণীয়

অ্যাম্বুলেন্স আসার সেই ৫-১০ মিনিট সময় খুবই মূল্যবান। এই সময়ে রোগীর পাশে থাকুন। রোগীর প্রেসক্রিপশন, প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় এবং নগদ টাকা বা কার্ড গুছিয়ে নিন। রোগীর সাথে যাওয়ার জন্য একজনকে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ভিড় করে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে জটলা করবেন না, এতে রোগীর দমবন্ধ ভাব হতে পারে।

৭. ট্রাফিক জ্যামের কথা মাথায় রাখা

আমাদের দেশে ট্রাফিক জ্যাম একটি চিরচেনা সমস্যা। তাই কোনো সংকটাপন্ন রোগী থাকলে অ্যাম্বুলেন্স ডাকার সময় বর্তমান রাস্তার জ্যামের অবস্থা সম্পর্কে ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করুন। অনেক সময় অভিজ্ঞ ড্রাইভাররা বিকল্প ছোট রাস্তা ব্যবহার করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন।

৮. অ্যাম্বুলেন্সের ধরন নির্বাচন করা

আপনার যদি দীর্ঘ দূরত্বের (যেমন ঢাকা থেকে বাইরের জেলা) জন্য রোগী পাঠানোর প্রয়োজন হয়, তবে অবশ্যই ভালো মানের ‘এসি অ্যাম্বুলেন্স‘ বেছে নিন। দীর্ঘ ভ্রমণে গরমে রোগী আরও অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। আর গর্ভবতী মা বা শিশুদের জন্য অতিরিক্ত সর্তকতা বজায় রাখা জরুরি।

উপসংহার: অ্যাম্বুলেন্স কল করা কেবল একটি সেবা চাওয়া নয়, এটি একটি জীবন বাঁচানোর প্রক্রিয়া। আপনার ধৈর্য, সঠিক তথ্য এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত একজন মুমূর্ষু রোগীকে নতুন জীবন দিতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে ওপরের বিষয়গুলো মেনে চললে আপনি সবচেয়ে ভালো সেবাটি নিশ্চিত করতে পারবেন।